ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় অনুমোদন

সিঙ্গাপুর থেকে তিন কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

সিঙ্গাপুরের তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিন কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার।

সিঙ্গাপুরের তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিন কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬২০ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৬৪ টাকা। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে গতকাল অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া সার কেনাসহ আরো বেশকিছু প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো এলএনজি আমদানির পৃথক তিনটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক তিনটি প্রতিষ্ঠান এই এলএনজি সরবরাহ করবে। এর মধ্যে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে ১ কার্গো এলএনজি ৫৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ১১ হাজার ৩৬০ টাকায় আমদানি করা হবে। অন্যদিকে মেসার্স গানভর সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ৫৪০ কোটি ৫১ লাখ ৬৪ হাজার ১২৮ টাকা। এছাড়া মেসার্স ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি ৫৪৪ কোটি ৭৭ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬ টাকায় আমদানি করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সৌদি আরবের মাদেন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৪ ডলার। একইভাবে রাশিয়ার জেএসসি ও বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৩০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১১৮ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২৩ ডলার।

বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদন করেছে সরকার। সিপিজিসিবিএলের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) চূড়ান্ত করতে ট্যারিফ কাঠামো ও লেভেলাইজড ট্যারিফ অনুমোদন দেয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ৮ টাকা ৪৫ পয়সা। এর মধ্যে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার দাম ধরা হয়েছে ৫ টাকা ৮৪ পয়সা এবং ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ৬০ পয়সা। ৮৫ শতাংশ প্লান্ট ফ্যাক্টর বিবেচনায় প্রতি বছর ৭ হাজার ২৩৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং ৩০ বছরে ২ লাখ ১৭ হাজার ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ কিনবে সরকার।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প’-এর সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যামিনিটিজের (সি সাইড) পূর্ত কাজের জন্য ৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ১০ তলা মূল ভবন নির্মাণকাজের অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ১২ হাজার ৮৬৪ টাকা।

আরও